হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়াপ্রেমী এবং সর্বোপরি একজন ক্রীড়া সংগঠক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলের ফুটবল টিমের অধিনায়ক ছিলেন। চল্লিশের দশকে বঙ্গবন্ধু ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের হয়ে নিয়মিত ফুটবল খেলেছেন। শুধু ফুটবল নয়, ভলিবল, বাস্কেটবল এবং হকিতেও ছিল বঙ্গবন্ধুর সমান পারদর্শিতা। ক্রীড়াপ্রেমী বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্য স্বাধীন দেশে ক্রীড়াকে জাগ্রত করার জন্য ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘জাতীয় ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ সংস্থা’ গঠন করেন। আর্থিক সংকটের মধ্যেও ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দেশের শীর্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া ফেডারেশন গঠনে অবদান রাখেন।
এছাড়াও ১৯৭২ সালে গঠন করেন ‘বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া সমিতি’। এই নামকরণ করেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধু। ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত Inter School Sports Association of East Pakistan নামক সংস্থা কর্তৃক স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া পরিচালিত হতো। ১৯৬২ সালে এ নাম পরিবর্তিত হয়ে ‘জাতীয় স্কুল ক্রীড়া সমিতি’ গঠিত হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক পরিবর্তিত নাম ‘বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া সমিতি’ নামে সারা বাংলাদেশে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ক্রীড়া কার্যক্রম চলতে থাকে যা এখন পর্যন্ত চলমান। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২২ সালে ৫০ তম শীতকালীন ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে ক্রীড়া সমিতির সুবর্ণজয়ন্তীও পালন করতে যাচ্ছে।।
বর্তমানে এই সমিতি ‘বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতি’ নামে আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের শারীরিক শিক্ষা বিভাগ এই সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সমিতির সভাপতি হচ্ছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘মহাপরিচালক’ এবং সম্পাদক হচ্ছেন একজন ‘উপপরিচালক’ পদমর্যাদার কর্মকর্তা। মহামান্য রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন সমিতির প্রধান পৃষ্ঠপোষক। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা সচিব মহোদয় সমিতির পৃষ্ঠপোষক। শিক্ষার একদম তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এই সমিতির কার্যক্রম বিস্তৃত এবং তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দও সমিতির সাথে যুক্ত আছেন।